খোশ আমদেদ মাহে রমজান I বেশি বেশি করে তওবা ইসতিগফার করা উচিত
আজ ১১ রমজান। দেখতে দেখতে মাহে রমজানের রহমতভাগ পাড়ি দিয়ে মাহে রমজানের মাগফেরাত ভাগে আমরা এসে গেছি। মাহে রমজান একটি বরকতময় মাস। আজ থেকে ২০ রমজান পর্যন্ত ধ্বনিত হবে—মুবারক হো মাহে রমজান।
মাগফেরাত অর্থ ক্ষমা। এখন বেশি বেশি করে তওবা ইসতিগফার করা উচিত। আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মাফ চাইলে গুনাহ পাহাড়সমান হলেও তা মাফ করে দেন। আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু ইরশাদ করেন, হে আমার বান্দাগণ তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ—আল্লাহর অনুগ্রহ (রহমত) হতে নিরাশ হোয়ো না। আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সুরা যুমার আয়াত ৫৩)।
>>খোশ আমদেদ মাহে রমজান I আজ রহমত দশকের সমাপ্তি হয়ে শুরু হবে মাগফিরাতের দশকের<<মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম আলায়হিস সালাম এবং আদি মাতা হজরত হাওয়া আলায়হিস সালাম জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন একটি ভুলের জন্য। শয়তান তাদের ভুল করতে প্ররোচিত করেছিল। তারা তাদের ভুলের জন্য পৃথিবীতে আলাদা দুই স্থানে অবস্থান করেন। প্রায় ৩৫০ বছর ধরে তওবা ইসতিগফার করেন। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন যখন হজরত মুহম্মদ রসুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওসিলা দেওয়া হয়। তাদের মোনাজাত ছিল, "রব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়াইল্লাম তাগফিরলানা ওয়াতারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরিন।" হে আমাদের রব আমরা আমাদের নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং যদি অনুগ্রহ না করেন—তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব (সুরা আরাফ আয়াত ২৩)।
ইলমে তাসাওউফের তওবার ফয়েজ নিষ্ঠার সঙ্গে রপ্ত করতে পারলে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। যুগশ্রেষ্ঠ সুফি হজরত মওলানা শাহ সুফি আলহাজ তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন, তওবা অর্থ প্রত্যাবর্তন, আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার বড়ো উপায় হচ্ছে তওবার ফয়েজ রপ্ত করা।
কামিল পিরের কাছ থেকে এজন্য তালিম গ্রহণ করা জরুরি। তওবার ফয়েজের মুরাকাবার মাধ্যমে পাপশূন্য জীবন অর্জন করা সম্ভব।
লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.), সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
প্রকাশিতঃ ই/ত্তে/ফা/ক, ০৫ মে ২০২০
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই