খোশ আমদেদ মাহে রমজান I কোনো ইবাদত করলে তার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি হয়ে যায়
আজ ১৪ রমজান। রমজান মাস সিয়ামের মাস। সিয়ামের জন্য এই মাসকে খাস করে দিয়েছেন। এ মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে কোনো ইবাদত করলে তার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি হয়ে যায়। শুধু তাই নয় মৃত্যুর পর কবরে দাফন করে লোকজন চলে গেলে কবরে আজাবের ফেরেশতারা যখন আসে তখন কবরবাসীর মাথার দিক থেকে সিয়াম এবং পায়ের দিক থেকে সালাত (নামাজ) তাকে আজাব থেকে রক্ষা করবে।
হাদিস শরিফে আছে : সায়িমের জন্য দুটো সময় খুবই আনন্দের। তার একটি হচ্ছে ইফতারের সময় আর অন্যটি হচ্ছে আখিরাতে যখন সে আল্লাহর দিদার লাভ করবে।
খোশ আমদেদ মাহে রমজান I যেদিন ইঞ্জিল কিতাব নাজিল হয়েছিল
আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু ইরশাদ করেন : আমি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট রসুল পাঠিয়েছি যিনি আমার আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন আর তোমরা যা জানতে না তা শিক্ষা দেন। সুতরাং তোমরা আমারই জিকির করো আমি তোমাদের স্মরণ করব, তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও আর কৃতঘ্ন হইও না। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫১-১৫২)। এর পরেই আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু ইরশাদ করেন : ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছ। ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা আয়াত ১৫৩)।
আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু মানুষ সৃষ্টি করেছেন আশরাফুল মাখলুকাত হিসাবে। মানুষকে দিয়েছেন সুন্দরতম অবয়ব। মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। তিনি মানুষকে নানা ধরনের আপদবিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার উপায় হচ্ছে ধৈর্য অবলম্বন করা। বিপদে ধৈর্য অবলম্বন করার মধ্য দিয়ে মূলত আল্লাহর প্রতি শোকর প্রকাশ হয়। মাহে রমজানে নিয়ত করে দিবসের সবটুকু সময় অর্থাত্ সুবিহ সাদিকের পূর্বক্ষণ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় কামাচার পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে ধৈর্য বা সহিষ্ণুতার প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয় তা জীবনবোধে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থান করে।
লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.), সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
প্রকাশিতঃ ই/ত্তে/ফা/ক, ০৮ মে ২০২০
.png)
কোন মন্তব্য নেই