Header Ads

খোশ আমদেদ মাহে রমজান I এই মাস মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করার মাস

 

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ২ রমজান। রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং দৈহিকভাবে সক্ষম নর-নারীর জন্য ফরজ। নারীদের মাসিকের দিনগুলোয় এবং সন্তান প্রসবজনিত অপবিত্রতার দিনগুলোয় সিয়াম পালন করা তাত্ক্ষণিকভাবে বর্তায় না। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়ের ক্ষেত্রেও এটা শিথিল করা হয়েছে। কুরআনে ইরশাদ করা হয়েছে। পীড়িত কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করতে হবে। তোমাদের জন্য যা সহজ আল্লাহ তাই চান এবং যা তোমাদের জন্য ক্লেশকর তা চান না এই জন্য যে, তোমরা সংখ্যা পূরণ করবে। (সূরা বাকারা-১৮৫)।

সিয়াম পালনকারীকে বলা হয় সায়িম বা রোজাদার। সিয়াম রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে পানাহার করাকে সেহরি বলে। সেহরি গ্রহণ করা সুন্নত। সিয়ামের নিয়ত করা অবশ্যই কর্তব্য। সেহরি না খেলে সিয়াম হবে কিন্তু নিয়ত না করলে সিয়াম হবে না। সেহরির সময়ে নিয়ত করা ভালো। যদি কেউ সেহরিকালে নিয়ত না করে তাহলে দুপুর ১২টার আগে যে কোনো সময় নিয়ত করলেও হবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন, সেহরি খাবে, নিশ্চয়ই সেহরিতে বরকত রয়েছে। সূর্যাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতারের নিয়তে ইফতার করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন, মানুষ যতদিন ত্বরিত ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। তিনি আরো বলেছেন, কেউ কোনো সায়িমকে যদি ইফতার করায় সে সেই সায়িমের সমান সওয়াব পাবে। ইফতার করা এবং ইফতার করানোর মধ্যে অফুরন্ত সওয়াব রয়েছে।

খোশ আমদেদ মাহে রমজান I অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম I আজ পহেলা রমজান


বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ইফতার পার্টি ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা এক বিশেষ মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। গ্রামবাংলার ইফতার করানোর এই নীতিটাকে বলা হয়, রোজাদার খাওয়ানো বা রোজদার খাওয়ানো। এতে ইফতার করানোর পর মাগরিবের সালাত আদায়ের পর সাধ্য অনুযায়ী মেহমানগণকে উত্তম খাবার খাওয়ানো হয়। আর এই ইফতার পার্টি বা রোজাদার খাওয়ানোর মধ্যে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হবার লক্ষ্য প্রস্ফুটিত হয়।  একবার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ সাহাবায়ে কেরামকে বলেছিলেন; তোমরা রোজাদারকে ইফতার করাবে। একজন সাহাবি বললেন: আমাদের অনেকেরই ইফতার করানোর মতো সামর্থ্য নেই। তিনি বললেন, পেটভরে খাওয়াতে হবে এমনটা তো নয়, একটু দুধ, কিংবা এক ঢোক পানি কিংবা একটা খেজুর দিয়ে ইফতার করালেও সমান সওয়াব পাবে। রমাদান মাস মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করে  সমতার সমাজ গড়ার তাকিদ দেয়।

লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.), সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

প্রকাশিতঃ ই/ত্তে/ফা/ক  -  ০৮ মে ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই

5ugarless থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.