খোশ আমদেদ মাহে রমজান I সালাত আদায় করলে সায়িমের মননে প্রশান্তি নেমে আসে
আজ ৩ রমজান। রমজান বা রমাদান মাসে ইশার সালাতের পরে এবং বিতরের সালাত আদায়ের পূর্বে দুই রাকআত করে করে ১০ সালামে যে ২০ রাকআত সুন্নতে মুআক্কাদা সালাত আদায় করতে হয় তাকে সালাতুত তারাবিহ্ বা তারাবির নামাজ বলা হয়। এই সালাত আদায় করলে সায়িমের (রোজাদার) মননে এক অপূর্ব প্রফুল্লতা ও প্রশান্তি নেমে আসে। অন্তরের গভীরে এমন এক জ্যোতির বিচ্ছুরণ ঘটে, যার আভা প্রস্ফুটিত হয় তার চেহারায়।
দিবসের প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা কঠিন কৃচ্ছ্রতা সাধনের পর ইফতারের মধ্য দিয়ে সায়িমের মধ্যে যে আনন্দআভা বিম্বিত হয় তা সুদৃঢ় হয়ে ওঠে ২০ রাকআত তারাবির সালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে। এছাড়াও এই সালাত পড়লে গোনাহরাশি ক্ষমা করা হয়। হাদিস শরিফে তারাবিহর সালাতের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত একখানি হাদিস আছে। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমাদানে ইমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় তারাবিহর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি শরিফ)
৬২৪ খৃষ্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি মুতাবিক দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসের শেষ তারিখের দিবাগত রাত তথা পহেলা রমাদান রাতে (বাদ ইশা) সর্বপ্রথম তারাবিহর সালাত মসজিদুন নববিতে প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে আদায় করেন। হাদিস শরিফে আছে যে, প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সালাত (তারাবিহর সালাত) আদায় করেন এবং তা ছিল রমাদানে।
>>খোশ আমদেদ মাহে রমজান I এই মাস মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করার মাস<<
মূলত আগে মসজিদুন নববিতে একাধিক জামাআতে একই সময়ে তারাবিহর সালাত সাহাবায়ে কেরাম আদায় করতেন, কেউ কেউ একাকীও পড়তেন। তারাবিহর সালাতে কুরআন মজিদ তেলাওয়াত সশব্দ হওয়াতে অনেকের কুরআন পাঠের আওয়াজ উত্থিত হতো, মসজিদে নববিতে হযরত উমর ইবনুর খাত্তাব রাদি আল্লাহু তাআলা আনহু একা ইমামের নেতৃত্বে এই সালাতের জামাআত ব্যবস্থা চালু করেন। হযরত উসমান (রা), হযরত আলী (রা), হযরত তালহা (রা), হযরত যুবায়র (রা), হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)সহ সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ২০ রাকআত তারাবিহর সালাত আদায় করার ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেন।
লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.), সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
প্রকাশিতঃ ই/ত্তে/ফা/ক - ০৯ মে ২০১৯
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই