খোশ আমদেদ মাহে রমজান I সিয়াম পালন না করলে কাযা, কাফফারা ও ফিদইয়ার বিধান
আজ ২৩ রমজান। আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু রমজান মাসের সিয়ামের গুরুত্ব সম্পর্কে ইরশাদ করেন। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সত্ কাজ করে তা তার জন্য অধিক কল্যাণকর। যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারতে তা হলে বুঝতে পারতে যে সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)।
রমজানের সিয়াম ফরয। বিশেষ বিশেষ অবস্থায় এই সিয়াম তখন পালন করতে না পারলে তার জন্য কাযা কাফফারা ফিদইয়া আদায় করবার বিধান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাহে রমজানে সিয়াম পালনে যে অফুরন্ত আনন্দ, যে আত্মিক পরিতৃপ্তির সৌকর্য, যে পরিচ্ছন্নতার আমেজ অনুভব, যে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের প্রাচুর্য পরশ লাভ করা যায় তা অন্য সময়ে লাভ করা যায় না। কাযা কাফফারা ফিদইয়া দিলে ফরয আদায় হয়ে যায় বটে কিন্তু রমজানে যে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে তাতো আর অর্জিত হয় না।
খোশ আমদেদ মাহে রমজান I রমজান সমাপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে
প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন, মাহে রমজানের একটি সিয়াম ছেড়ে দেওয়া এত বড়ো কঠিন কর্ম যে সারা জিন্দিগি সিয়াম পালন করলেও তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব না। (তিরমিযি শরিফ)।
হাদিস শরিফে আছে, মাহে রমজানে একজন ফেরেশতা প্রতিদিন মানবজাতিকে সম্বোধন করে বলতে থাকেন হে অনুসন্ধানকারীগণ। আল্লাহর যিকর করো আর আর আল্লাহর দিকে অগ্রসর হও। হে অনুসন্ধানকারীগণ এখনো সময় আছে ফিরে এসো, জ্ঞানচক্ষু উম্মিলিত করো। অতঃপর তিনি আবার বলতে থাকেন ক্ষমা চায় এমন কোনো ব্যক্তি আছে কি? তাকে ক্ষমা করা হবে। তওবা করনেওয়ালা কেউ কি আছে? তার তওবা কবুল করা হবে। কারো কি কোনো কিছু দাবি করার আছে? তার দাবি পূরণ করা হবে। (আহমদ)।
যুগশ্রেষ্ঠ সুফী কুতবুল আলম হযরত মওলানা শাহ সুফী আলহাজ্ব তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন: রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর রহমত এতো অজস্র ধারায় বর্ষিত হয় যে, তা অন্য কখনো হয় না। সেই রহমতের নূর অবলোকন করতে হলে ইলমে তাসাওউফ চর্চা করতে হবে।
লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.), সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
প্রকাশিতঃ ই/ত্তে/ফা/ক, ১৭ মে ২০২০
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই